যখন শরীরে ইনসুলিন তৈরি হতে না পারে তখন স্থূলতা বৃদ্ধি পায়। রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকলে ওজন সাম্যবস্থায় থাকে, শরীর ভালো থাকে ।

খাদ্যতালিকা ঠিক রাখার মাধ্যমেই বিভিন্ন ধরণের ডায়াবেটিস(যেমন – টাইপ-১ বা টাইপ-২ ) আক্রান্ত রোগীদের ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় ।

যেসব খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে যেমন (গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) কম ও ফাইবারের পরিমাণ বেশি) সেসব ডায়াবেটিস রোগীদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

বাজারে যেসব ফল টক সেগুলোর শর্করাও কম থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীর প্রতিদিনের ফলের তালিকায় থাকবে আমলকী,লেবু,সবুজ আপেল, বাতাবি লেবু, জাম্বুরা,বরই,পেয়ারা,জলপাই। এসব ফল দামেও সস্তা কিন্তু কাজে অতুলনীয়।



নাসপাতি: ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে ফাইবারের ভূমিকা অপিরিসীম আর নাসপাতিতে রয়েছে বেশি পরিমাণ ফাইবার । তাই ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য নাসপাতি রাখা ভালো ।

স্ট্রবেরি ফল: স্ট্রবেরি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে । স্ট্রবেরিতে আছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাংগানিজ, ভিটামিন সি ও পটাশিয়াম। গবেষণায় দেখা গেছে আটটি স্ট্রবেরিতে একটি কমলার সমান ভিটামিন সি পাওয়া যায়।

আপেল:আপেল এখন সারাবছরই পাওয়া যায়। আপেলের গুনাগুন সম্পর্কে নুতন করে বলার কিছু প্রয়োজন নেই। আপেলে রয়েছে অধিকমাত্রায় ফাইবার, আর আপেল খাওয়ার ফলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভর্তি থাকে। ক্ষুধা কম লাগে, শরীরে খাবারের চাহিদা মিটায়। এছাড়াও আপেলে ভিটামিন-সি থাকায় ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখে ।

আনারস: আনারসে রয়েছে অ্যান্টি ভাইরাল, অ্যান্টি ইনফ্ল্যামাটরি এবং অ্যান্টি ব্যাকটরিয়াল উপাদান, যা দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। সাধারণত যারা ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত তাদের জন্য আনারস অন্যতম ফল। এছাড়া ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও আনারস ফল বেশ কার্যকরি। আনারস ওজন কমায়, আনারসে প্রচুর ফাইবার রয়েছে এবং অনেক কম ফ্যাট হওয়ায় পরিমিত পরিমান আনারস খাওয়া ভালো। আনারসের জুস অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।




পেয়ারা: পেয়ারায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি,ভিটামিন এ এবং ডায়েটারি ফাইবার । এই ডায়েটারি ফাইবার থাকার কারণে জিআই খুবই কম পরিমাণে থাকে। যার ফলে রক্তের শর্করা বৃদ্ধি পে না কিন্তু শরীরের বাড়তি পুষ্টির চাহিদা মিটায় । কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও এই ডায়েটারি ফাইবার সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

আমলকী: প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি আছে আমলকীতে। গবেষণায় দেখা গেছে, আমলকী ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে। এর মধ্যে ক্রমিয়াম রয়েছে, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খুবই উপকারী।  এছাড়া নিয়মিত আমলকী খেলে রক্তের চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে যা ডায়াবেটিস রোগীদের বেশি প্রয়োজন।

আমড়া: এটি একটি পুষ্টিকর টক ফল। আমড়াতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি, ক্যালসিয়াম আর আঁশ, আয়রন, ক্যারোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও সামান্য পরিমাণে প্রোটিন, পেকটিন জাতীয় ফাইবার ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভিটামিন সি সমৃদ্ধ আমড়া খুবই উপকারী।

জাম: জ্যাম  অত্যন্ত উপকারী ফল। জামে বেশি পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের থাকায় শরীরের জন্য অত্যন্ত ভালো। জামে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে। আর আয়রন থাকার ফলে রক্তে হিমোগ্লোবিন বেড়ে যায়। ফলে রক্ত পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। জামে অধিক ভিটামিন ‘এ’ আর ‘সি’  থাকায় ডায়াবেটিস রোগীরা এতে বেশ উপকার পাবেন।

Facebook Comments