Home স্তন ক্যান্সার

স্তন ক্যান্সার

স্তনের কিছু কোষ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে, ওই অনিয়মিত ও অতিরিক্ত কোষগুলো বিভাজনের মাধ্যমে টিউমার বা পিণ্ডে পরিণত হয়। কোষ গুলো প্রথমে টিউমারে পরিণত হয়। স্তন টিউমার গুলো একসাথে এক্স-রে তে ধরা পড়ে অথবা চাকা বা পিণ্ডের মত অনুভূত হতে থাকে। স্তন ক্যান্সার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মহিলাদের হয়ে থাকে তবে পুরুষদেরও স্তন ক্যান্সার হতে পারে। এটি বোঝা অত্যাবশ্যক যে অধিকাংশ স্তন পিণ্ড ঝুঁকিপূর্ণ না এবং ক্যান্সারের সংক্রমণ করে না। নন ক্যান্সরাস স্তন টিউমার হলো অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, এগুলো শরীরের বাহিরে প্রসারিত হয় না। এগুলো জীবনের জন্য হুমকি স্বরূপ নয়, তবে কিছু ধরনের স্তন পিণ্ডের জন্য মহিলাদের স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। যেকোনো স্তনের পিন্ড অথবা পরিবর্তন ডাক্তার কর্তৃক পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত যে সেটি ঝুঁকিপূর্ণ ক্যান্সারের সংক্রমণ পিণ্ড কিনা এবং সেটি আপনার ভবিষ্যৎ ক্যান্সারের ঝুঁকি রাখে কিনা। অনেক সময় স্তন ক্যান্সার বাহুর নিচের লসিকা গ্রন্থি অথবা কলার বোন পর্যন্ত প্রশস্ত হতে পারে এবং সেখানে পিণ্ডের সৃষ্টি করে স্ফীত করে যেটি মূল টিউমারের থেকেও বড় অনুভূত হয়।

 

যেসব মহিলার বংশানুক্রমে স্তন ক্যান্সার আছে, এবং যাদের স্তন স্থূলকায় তাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি অত্যধিক বেশি । ‌‌ পিণ্ডের সৃষ্টি, চাকার মত, স্তন ত্বক পরিবর্তন, দুগ্ধ ক্ষরণ এবং ব্যথা হওয়া এ রোগের অন্যতম লক্ষণ।

স্তন ক্যান্সার লক্ষণ সমূহ:

  • স্তনের মধ্যকার পিণ্ড। একটি ব্যথা বিহীন শক্ত মাংস/পিণ্ড/ টিউমার যার অনিয়ন্ত্রিত পরিবর্তন দেখা যায় তা ক্যান্সার হওয়ার মত, তবে ক্যান্সার কোমল নরম এবং গোলাকার ও হতে পারে। এমনকি ব্যথা হীন হতে পারে।
  • স্তনে কিছু অংশ অথবা পুরোটা ফুলে যাওয়া‌। ( এমনকি পিণ্ড অনুভূত না হলেও)
  • ত্বক পরিবর্তন ,দুগ্ধ ক্ষরণ এবং ব্যথা অনুভূত হলে।
  • স্তনবৃন্ত অথবা স্তনের ত্বক লাল, শুকনো হলে, চামড়া উঠে গেলে বা ঘনীভূত হলে।
  • স্তনবৃন্ত থেকে কোন তরল নিঃসৃত হলে। ( দুগ্ধ ছাড়াও)
  • বাহুর নিচে অথবা কলার বোনের আশেপাশে স্ফীত লসিকা গ্রন্থি।

স্তন ক্যান্সারের কারণ:

স্তন ক্যান্সারের দু’ধরনের ক্ষতিকারক কারণ বিদ্যমান আছে :

  • জীবন যাপন সংক্রান্ত ক্ষতিকারক স্তন ক্যান্সার ঝুঁকির কারণগুলি
  • স্তন ক্যান্সারের অপরিবর্তনীয় ঝুঁকির কারণগুলি যা আপনি পরিবর্তন করতে পারবেন না

জীবন যাপন সংক্রান্ত ক্ষতিকারক স্তন ক্যান্সার ঝুঁকির কারণগুলি

মদ্যপান করা:

মদ্যপান করা স্তন ক্যান্সার বৃদ্ধির ঝুঁকির সাথে সরাসরি  সম্পৃক্ত। মদ্য গ্রহণের পরিমাণ এর সাথে ক্যান্সার ঝুঁকির পরিমাণ ও বৃদ্ধি পায়। যেসব মহিলারা দিনে একবার হলেও মদ্যপান করে তাদের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা সাধারণদের থেকে ৭-১০% বেশি থাকে। যারা দিনে দুই থেকে তিনবার মদ্যপান করে তাদের সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি থাকে।

অতিরিক্ত ওজন অথবা স্থূলতা:

মেনোপজ একটি স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়া মেনোপজ কালের পরে অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। মেনোপজ কালের আগে শরীরের বেশিরভাগ ইস্ট্রোজেন ডিম্বাশয় তৈরি হয় এবং মেদ কলা ইস্ট্রোজেনের সামান্য একটি অংশ তৈরি করে। মেনোপজ কালের পর মহিলাদের ইস্ট্রোজেন মেদ কলা থেকে তৈরি হয় ।  মেদ কলার পরিমাণ বেশি হয় ইস্ট্রোজেন এর পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এছাড়াও অধিক ওজন এর মহিলাদের রক্তে ইনসুলিনের পরিমাণ অত্যধিক থাকে যা ক্যান্সারের সাথে সম্পৃক্ত,  বিশেষত স্তন ক্যান্সারের সাথে।

মেনোপজ কালের পর হরমোনাল থেরাপি:

মেনোপজ লক্ষন উপশম করার জন্য এবং হাড় ক্ষয় রোধ করার জন্য বহু বছর থেকে ইস্ট্রোজেন এর সাহায্যে হরমোনাল থেরাপি ব্যবহার করা হয়। এই চিকিৎসার বিভিন্ন নাম আছে, যেমন: পোস্ট মেনোপজাল হরমোন থেরাপি, হরমোন প্রতিস্থাপন থেরাপি এবং মেনোপজাল হরমোন থেরাপি। মূলত দু’ধরনের হরমোন থেরাপি বিদ্যমান। যেসব মহিলাদের এখনও জরায়ু বিদ্যমান, ডাক্তাররা সাধারণত তাদের ইস্ট্রোজেন এবং প্রজেস্টেরন (সমন্বিত হরমোন থেরাপি হিসেবে পরিচিত) প্রেসক্রাইব করেন। প্রোজেস্টেরন দরকার কারণ শুধুমাত্র ইস্ট্রোজেন জরায়ুতে ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে

জন্মনিয়ন্ত্রণ:

দীর্ঘদিন ধরে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল খাচ্ছেন বা হরমোনের ইনজেকশন নিচ্ছেন এমন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি স্ত্রীদেহে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি সৃষ্টি করে।

সন্তান না থাকা:

যেসব মহিলাদের সন্তান নেই অথবা যাদের প্রথম সন্তান ৩০ বছর বয়সের পরে হয়েছে তাদের স্তন ক্যান্সারের উচ্চ সম্ভাবনা বিদ্যমান। অধিক গর্ভধারণ এবং কম বয়সে গর্ভবতী হওয়া স্তন ক্যান্সারের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।

স্তন্যপান না করানো:

স্তন্যপান নবজাতক শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ, পাশাপাশি তার মায়ের স্বাস্থ্যের জন্যও। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে স্তন্যপান করার ফলে সামান্য মাত্রায় হলেও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে আনে, বিশেষত যদি তা এক বছরের অধিক সময় পর্যন্ত চলে।

স্তন ক্যান্সারের অপরিবর্তনীয় ঝুঁকির কারণগুলি যা আপনি কখনো পরিবর্তন করতে পারবেন না

বংশানুক্রমে:

যেসব মহিলাদের কাছের রক্তের সম্পর্ক আছে এমন আত্মীয়ের স্তন ক্যান্সার বিদ্যমান, তাদের ঝুঁকি অত্যাধিক। যে মহিলার পিতা অথবা ভাই এর স্তন ক্যান্সার আছে, তিনি ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। স্তন ক্যান্সার সম্পন্ন মা, বোন অথবা মেয়ে থাকলে তার স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা দ্বিগুণ বেড়ে যায়।

সময়ের আগে মাসিক হওয়া:

যেসব মহিলাদের মাসিক চক্র বেশি হয় কারণ তাদের মাসিক সময়ের আগে শুরু হয় (বিশেষত ১২ বছরের আগে), তাদের সামান্য পরিমাণে বেশি স্তন ক্যান্সারের সম্ভাবনা রয়েছে। ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোনের দীর্ঘ জীবনকালের কারণে এই ঝুঁকি বৃদ্ধি হতে পারে।

৫৫ বছর বয়সের পর মেনোপজ :

যেসব মহিলার ৫৫ বছর বয়সের পর মেনোপজ হয়। যার ফলে বেশি মাসিক চক্র হয়, তাদের স্তন ক্যান্সারের উচ্চ সম্ভাবনা থাকে। ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোনের দীর্ঘ জীবনকালের কারণে এই ঝুঁকি বৃদ্ধি হতে পারে।

স্তন ক্যান্সারের প্রাকৃতিক প্রতিরোধ:

অধিক আঁশ যুক্ত খাবার খাওয়া স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। তাজা ফলমূল ক্যান্সার ঝুঁকি কমায়। বেরি জাতীয় ফল, যেমন: ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি এবং ব্ল্যাক রাসবেরি অনেকটা উপকারী। বেদেনা তে অক্সালিক অ্যাসিড বিদ্যমান যা একটি উচ্চ গুণ সম্পন্ন এন্টি অক্সিডেন্ট। হলুদ, সবুজ এবং কমলা সবজিতে ফাইটোকেমিক্যাল ক্যারোটিনয়েড পাওয়া যায়।

এরকম কিছুই সবজি ফলের মধ্যে গাজর, মিষ্টিআলু, পালং শাক, আমলাকি অন্যতম এগুলো বেশি করে খেতে হবে ক্রুসীফেরাস সবজি,যেমন ব্রকলি, মাশরুম, করলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদিতে অনেক পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বিদ্যমান

এই সবজি গুলোতে গ্লুকোসিনোলেট যৌগিক বিদ্যমান যা ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে থাকে।

তিসির বীজ, কুমড়ো বীজ, তিল, পুদিনা পাতা, আখরোট সাধারণ খাবারের পাশাপাশি প্রতিদিন গ্রহণের ফলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায় অলিভ অয়েল, অ্যাভোকাডো এবং বাদামে পর্যাপ্ত পরিমাণে স্নেহ বিদ্যমান যা স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক

শস্যদানা যেমন লাল চাল, ওটস, বার্লি, ভুট্টা, এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে আঁশ এবং ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়। যা ক্যান্সার প্রতিরোধে উপকারী।

পরীক্ষালব্ধ গবেষণায় পাওয়া গেছে যে স্তন ক্যান্সার এর সাথে ভিটামিন ডি এর ঘাটতির সম্পর্ক থাকতে পারে। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ভিটামিন ডির অন্যতম উৎস এছাড়াও ডিমের কুসুম, হেরিং মাছ, সার্ডিন মাছ, স্যামন মাছ, ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ কমলার জুস, ট্যাকো ইয়োগার্টে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। সয়াবিন এবং সয়া জাতীয় পণ্য ,যেমন টোফু, সয়া বাদাম, সয়া দুধ ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। প্রতিদিন দুই থেকে তিন কাপ গ্রিন টি খাওয়া উত্তম। পাশাপাশি ওমেগা থ্রি,লিগনিন এবং তন্তু টিস্যুতে বিদ্যমান।

সামুদ্রিক মাছ সপ্তাহে কমপক্ষে তিনদিন খাওয়া যেতে পারে। এগুলো অনেক উপকারী ।

যেসব খাদ্য পরিহার করা উচিত:

চিনি এবং মিষ্টি জাতীয় খাদ্য, উচ্চ স্নেহ জাতীয় খাদ্য, মদ, ফাস্টফুড এবং রেডমিট যতটা সম্ভব পরিহার করা উচিত।

ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য এমন কিছু খাদ্য আছে যা আমাদের দৈনন্দিন খাবারের পাশাপাশি গ্রহণ করা প্রয়োজন:

ডুমুর / তীন ফল

[…]

আমলকি (আমলা)

[…]

পেয়াজ/রসুনের পাতা,কলি

[…]

লাল শালগম

[…]

মাশরুম

[…]

তিসি বীজ

[…]

কাঠ বাদাম

[…]

তিল বীজ

[…]

ফুলকপি

[…]

তিতা করলা

[…]

গ্রীন টী

[…]

পালং শাক

[…]

মিষ্টি আলু

[…]

ব্রকলি

[…]

আখরোট

[…]

তুলসি

[…]

পেয়ারা

[…]

অ্যাভোকাডো ফল

[…]

গাজর

[…]

কুমড়া বীজ

[…]

স্তনের ক্যান্সারের লক্ষনগুলো

Facebook Comments